সিদ্ধ সাধক সনাতন দাস বাবাজীর পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে সাধু ভাণ্ডারা দিল শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম
ব্যারাকপুর (১৭ অক্টোবর '২৬):- গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম সিদ্ধসাধক, অকৃতদার ১০৮ শ্রীমদ সনাতন দাস বাবাজী-র ৪৭তম তিরোভাব দিবস উপলক্ষ্যে ব্যারাকপুরের ঘোষপাড়া রোডে অবস্থিত তাঁরই প্রতিষ্ঠিত 'শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম'-এ আজ সাধু ভাণ্ডারা সহ নরনারায়ণ সেবা করাল 'শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম' কর্তৃপক্ষ।
সাধু ভাণ্ডারা ও নরনারায়ণ সেবা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে 'শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম'-এর বর্তমান কর্ণধার আনন্দগোপাল দাস বারাজী জানিয়েছেন, "মহাত্মার তিরোভাব দিবস উপলক্ষ্যে আজ মন্দির সংলগ্ন নাটমন্দিরে বৈষ্ণব সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ১৮২ জন সাধু-সন্ত ও সাধ্বীদের বসিয়ে যেমন দ্বিপ্রাহরিক আহার পরিবেশন করা হয়েছে, তেমনই তাঁদের হাতে উপঢৌকন সহ দক্ষিণাও অর্পণ করা হয়েছে।"
'শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম' কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গেছে, "১৯০০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সনাতন দাস বাবাজী। ১৬-১৭ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করে নবদ্বীপে চলে এসে আনন্দগোপাল গোস্বামীর কাছে বৈষ্ণব মন্ত্রে দীক্ষা নেন বাবাজী।
১৯২০ সালে বৃন্দাবনের গোবিন্দ কুণ্ড পৌঁছে সিদ্ধ মনোহর দাস বাবাজীর থেকে বাবাজী বেশ এবং ভজন মন্ত্র লাভ করেন সনাতন দাস বাবাজী।
কথিত আছে সাধন জগতে চলার সময় সনাতন দাস বাবাজী একসময় রাধারমণ চরণদাস বাবাজীর মন্ত্রশিষ্য শীতল দাসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
১৯৭৪ সালে শীতল দাস বাবাজী-র তিরোধানের পর তাঁর স্মরণে ঘোষপাড়ায় সনাতন দাস বাবাজী 'শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম' প্রতিষ্ঠা করেন, এঁর ২ বছর পরে ১৯৭৬ সালে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় নিতাই-গৌরাঙ্গ বিগ্রহ।
সেবাশ্রম ও মন্দির প্রতিষ্ঠার পর সনাতন দাস বাবাজী আবার ফিরে যান বৃন্দাবনে। ১৯৮০ সালের মহাসপ্তমী তিথিতে তিনি মানসী গঙ্গার পাশে অবস্থিত তাঁর ভজন কুটিরে তিনি দেহরক্ষা করেন।"
'শ্রী শ্রী নিতাই গৌরাঙ্গ ভক্ত সেবাশ্রম'-এর বর্তমান প্রশাসক ও কর্ণধার আনন্দগোপাল দাস বাবাজী আরো জানিয়েছেন, "আগামীকাল নাটমন্দিরে ৬৪ মহন্তের ভোগ সহ আগত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।"


Comments
Post a Comment