বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জনিত আইন সম্পর্কে নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে : রিমঝিম জৈন


হীরক মুখোপাধ্যায় 

কলকাতা (১৯ সেপ্টেম্বর '২৬):- "বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জনিত আইন সম্পর্কে ভারতীয় আইনসভার নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে," বলে স্পষ্ট ভাবে জানালেন হাওড়ার জনৈক বিনোদকুমার জৈন-এর বিবাহিতা কন্যা রিমঝিম জৈন

রিমঝিম জৈন আজ প্রেস ক্লাব কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, "কোনো বিবাহিত দম্পতির জীবনে যদি কোনো তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটে, সেক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তির বদলে বিনাদোষে কেনো একজন আইনত বৈধ পত্নীকেই সব অন্যায় চুপচাপ সহ্য করতে হবে ? 

ভারতীয় সংস্কৃতি তথা সনাতনী সভ্যতা আদৌ কী এই আইনকে প্রশ্রয় দেয়, যদি না দেয় তবে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা বাতিল করা প্রয়োজন।"

রিমঝিম আরো বলেন, "ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৮২ ন্যায়সঙ্গত পত্নীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় শুধু প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করছে না ক্ষেত্রবিশেষে অনেক সময় এই আইন বৈবাহিক জীবনে দমবন্ধকর অবস্থা তৈরি করে ফেলছে।" 

'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'-র ৮২ নম্বর ধারা তাঁর বৈবাহিক জীবনে কীরকম বিরূপ প্রভাব ফেলেছে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রিমঝিম জানান, "প্রায় সাড়ে বারো বছরের পরিচয় পর্বের শেষে গুরগাঁওয়ের জনৈক সানি শর্মা-র সাথে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলাম।"

বিবাহিত জীবনের সাড়ে বারো বছর বাদে রিমঝিম জানতে পারেন, "অন্য এক মহিলার সাথে সানি-র অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বর্তমানে ওই মহিলা গর্ভবতী।"

বর্তমান আইনের বক্তব্য অনুযায়ী, পরকীয়া কোনো দোষবাহ বিষয় নয়। কোনো পুরুষ বা নারী বিবাহিত হওয়া সত্তেও পরকীয়ায় জড়াতেই পারেন। 

আর আইনের এই সমস্ত বক্তব্যকে হাতিয়ার করে অনেক বিবাহিত পুরুষই তাঁর আইনত বৈধ পত্নীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন বলে বর্তমানে অনেক বিবাহিত মহিলা সরব হচ্ছেন।

এই ধরনের ক্ষেত্রে রিমঝিমের মতো ভুক্তভোগী বিবাহিত পত্নীদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দুটো পথ খোলা থাকে হয় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পতির সুখের জন্য বিবাহবিচ্ছেদে সায় দাও, নয়তো সারা জীবন জ্বলে পুড়ে মরো বা আত্নহননের পথ বেছে নাও।

আজ প্রেস ক্লাব কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে রিমঝিম জৈন 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'-র ৮২ নম্বর ধারার অপপ্রয়োগ দূর করার জন্য একদিকে যেমন সমস্ত ভুক্তভোগী বিবাহিত মহিলাদের একই ছাতার তলায় একত্রিত হয়ে গণ প্রতিবাদ মঞ্চ গড়ে তোলার অনুরোধ করেছেন তেমনই ভারতের আইনসভার সদস্যদের কাছে এই আইনের বিরূপতাকে হৃদয়ঙ্গম করে আইন বদলানোর স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন।


Comments