প্রয়াত মনোবিজ্ঞানী তথা মনসমীক্ষক গিরীন্দ্রশেখর বসুকে মরণোত্তর ভারত রত্ন পুরস্কার দেওয়ার দাবী জানালেন সৌম্যশেখর বসু
কলকাতা (৯ সেপ্টেম্বর '২৬):- ভারতে মনোবিজ্ঞান শাখার পুরোধা পুরুষ প্রয়াত মনোবিজ্ঞানী তথা মনসমীক্ষক গিরীন্দ্রশেখর বসুকে মরণোত্তর 'ভারত রত্ন' পুরস্কার দেওয়ার দাবী জানালেন তাঁর প্রপৌত্র সৌম্যশেখর বসু। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে বলা যেতেই পারে বাংলা সাহিত্যের সুলেখক রাজশেখর বসু ওরফে 'পরশুরাম'-এর কণিষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন অধ্যাপক চিকিৎসক গিরীন্দ্রশেখর বসু।
সৌম্যশেখর আজ তাঁর প্রপিতামহ প্রয়াত গিরীন্দ্রশেখর বসুর প্রতিষ্ঠিত 'বোধি পীঠ হোম'-এর ৭৫ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত 'বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও পুনর্বাসন' সম্পর্কিত এক দিনের রাজ্যস্তরের সভায় বিশেষ অতিথি রূপে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতার সময় ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে এই দাবী পেশ করেন।
অধ্যাপক চিকিৎসক গিরীন্দ্রশেখর বসু তাঁর মৃত্যুর ২ বছর আগে 'বোধি পীঠ হোম' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের সার্বিক বিকাশ ও সহায়তার সুবিধার্থে আয়োজিত রাজ্য স্তরের এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'স্বাস্থ্য আয়োগ'-এর বর্তমান অধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, টেকনো ইণ্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ সৈকত মিত্র, মনোচিকিৎসক অমরনাথ মল্লিক, মনোচিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব।
মনোরোগ ও মনোবিজ্ঞান নিয়ে অধ্যাপনা করা একাধিক অধ্যাপক, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ছাত্রছাত্রী, পরিষেবিকা ও সহায়ক-সহায়িকা এবং অভিভাবক-অভিভাবিকাদের জ্ঞাতার্থে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তি সম্পর্কিত একাধিক বিষয় নিয়ে এই আলোচনা সভায় আলোকপাত করা হয়।
আলোচনা সভা শুরুর আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে 'বোধি পীঠ হোম'-এর সচিব দেবমাল্য রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, "বর্তমানে রান্নার গ্যাস, বিদ্যুত বিল, পানীয় জল সহ একাধিক সমস্যায় জর্জরিত 'বোধি পীঠ হোম'।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন কারণে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের একাংশের আধার কার্ড না থাকার জন্য তারা যেমন 'আয়ুষ্মান ভারত' কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনই অন্যান্য সরকারী সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমি আশা করব, কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার একযোগে এই জ্বলন্ত সমস্যা থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"
যাঁরা প্রয়াত অধ্যাপক চিকিৎসক গিরীন্দ্রশেখর বসু-র সম্পর্কে সেভাবে কিছু জানেন না তাঁদের অবগতির জন্য বলা যায় -
১৮৮৭ সালের ৩০ জানুয়ারি বিহারের দ্বারভাঙায় জন্ম গ্রহণ করেন গিরীন্দ্রশেখর বসু।
• পরবর্তীতে তিনি ১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রে এমবি/এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
• ১৯২১ সালে 'দ্য কনসেপ্ট অব রিপ্রেশন' থিসিসের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মনোবিজ্ঞানে প্রথম 'ডক্টরেট অব সায়েন্স' সংক্ষেপে 'ডি.এসসি.' ডিগ্রি লাভ করেন।
• ১৯২২ সালে তাঁর উদ্যোগে ইন্ডিয়ান সাইকোঅ্যানালিটিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
• ১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতার আর. জি. কর মেডিকেল কলেজে এশিয়ার প্রথম 'জেনারেল হসপিটাল সাইকিয়াট্রি ইউনিট' সংক্ষেপে 'জিএইচপিইউ' চালু করেন।
• ১৯৩৮ সালে মানসিক রোগীদের চিকিৎসার জন্য অধ্যাপক চিকিৎসক গিরীন্দ্রশেখর বসু লুম্বিনী পার্ক মেন্টাল হসপিটাল প্রতিষ্ঠা করেন।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর 'ডি এসসি' ডিগ্রি লাভের সময় থেকে 'লুম্বিনী পার্ক মেন্টাল হসপিটাল' তৈরির আগে পর্যন্ত কমবেশি ১৬ বছর তিনি চিঠিপত্রের মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড-এর সাথে তাত্ত্বিক আলোচনা ও মতামতের আদানপ্রদানে ব্যস্ত ছিলেন।
• ফ্রয়েডের ইডিপাস কমপ্লেক্স তত্ত্বের বিপরীতে তিনি নিজস্ব 'পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব' বা 'লিপ্স থিওরি' উপস্থাপন করেছিলেন, যা পাশ্চাত্য মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য ও স্বাধীন চিন্তা হিসেবে সমাদৃত।


Comments
Post a Comment