স্বপ্ন ও হতাশাকে পাথেয় করে ২৬তম বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করল ডাব্লু বি বি এ


হীরক মুখোপাধ্যায় 

কলকাতা (২৩ অগস্ট '২৬):- বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যখন দেশের 'বেকারি শিল্প' চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলেছে, ঠিক সেই সময় একরাশ স্বপ্ন ও বেশ কিছুটা আতঙ্ক ও হতাশাকে সাথে নিয়ে আজ কলকাতা বিজ্ঞান নগরীর বিপরীতে 'মিলন মেলা' প্রাঙ্গণে ২৬তম বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন করল 'ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশন' সংক্ষেপে 'ডাব্লু বি বি এ'।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের মুখ্য কার্যনির্বাহী আরিফুল ইসলাম জানান, "১৯৮৫ সালে সংগঠনের পথচলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম আমাদের স্মারক গ্রন্থের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রীসভার কোনো মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পাওয়া যায় নি।"

বলে রাখা ভালো, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের ১ হাজারের বেশি বেকারি শিল্পের মালিক 'ডাব্লু বি বি এ'-র সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্ন 'আত্মনির্ভর ভারত' এবং 'বিকশিত ভারত'-কে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে এই মুহূর্তে একদিকে যখন পশ্চিমবঙ্গের অনেক তরুণ শিল্পপতি বেকারি শিল্পকে নতুন করে আর একবার বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, ঠিক সেই সময় 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের অংশীদার রূপে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এহেন দ্বিচারিতা রাজ্যের বেকারি শিল্পমহলকে বেশ কিছুটা হলেও স্তম্ভিত করেছে।

'হাওড়া চেম্বার অফ কমার্স' এবং 'হরিজন সেবা সমিতি'-র অধ্যক্ষ শঙ্করকুমার স্যান্যাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক প্রশান্তকুমার বিশ্বাস, ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশন (স্মল ইণ্ডাস্ট্রীজ)-এর বিশিষ্ট আধিকারিক দেবদত্ত ব্যানার্জি, 'গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল'-এর বেকারি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান সুরজিৎ দাশগুপ্ত, সংগঠনের অধ্যক্ষ বজ্রাঙ্গপ্রসাদ আগরওয়াল সহ একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংগঠনের বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে আরিফুল ইসলাম বলেন, "অনুদান ও ভর্তুকির রাজনীতি অব্যাহত থাকলে বেকারি শিল্পের অধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভাবে সঙ্কট নেমে আসবে।"

আরাফুল ইসলাম আরো বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকগণ বারবার মুখে 'সিঙ্গেল উইণ্ডো লাইসেন্সিং সিস্টেম'-এর কথা বলে চললেও সে ব্যবস্থার 'ব'টুকুও আজ পর্যন্ত আমাদের চোখে পড়ে নি।"

বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি আরাফুল ইসলাম সরকারের নজর আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে বলেছেন, "এমনিতে বেকারি শিল্পে মুনাফার হার ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমে আসায় বেকারি শিল্পে সামান্য মন্দা দেখা দিয়েছে এর উপর যদি ভারী শিল্পের থেকেও চড়া হারে বিদ্যুৎ মাসুল গুনতে হয় তবে তো বেকারি শিল্পটাই উঠে যাবে !"

বলে রাখা ভালো, একসময় বেকারি শিল্পে ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকার আসার পর শিল্পপতিদের মধ্যে আসার সঞ্চার হলেও বিদ্যুতের মাসুল, চিনির দামবৃদ্ধির মতো বেশ কিছু সরকারি সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে উদ্যোগপতিদের মনে বেশ কিছুটা হতাশ করেছে। 

Comments