কলকাতা (১২ অগস্ট '২৬):- প্রথাগত শল্যচিকিৎসার বদলে 'রোবটিক সাইটোরিডাক্টিভ সার্জারি' সংক্ষেপে 'সিআরএস' এবং 'হাইপারথার্মিক ইন্ট্রাপোরিটোনিয়াল কেমোথেরাপি' সংক্ষেপে 'হাইপেক'-এর যুগল ব্যাবহারে বাজিমাত করলেন নারায়ণা হসপিটাল, হাওড়া-র চিকিৎসকগণ।
আজ প্রেস ক্লাব কলকাতায় 'রোবটিক সিআরএস উইথ হাইপেক ফর অ্যাডভান্সড ওভারিয়ান ক্যানসার কেয়ার' নামাঙ্কিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে 'নারায়ণা হেলথ'-এর ছত্রছায়ায় চালিত 'নারায়ণা হসপিটাল, হাওড়া'-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, "পূর্ব ভারতে জরায়ু ক্যানসারের ক্ষেত্রে হাওড়াতে প্রথম কোনো রোগিনীর দেহে একসাথে 'সিআরএস' ও 'হাইপেক' প্রয়োগ করে রোগিনীকে সুস্থজীবনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।"
বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই মুহূর্তে ভারতে প্রতি বছর ৪৭ হাজার মহিলা জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং দুঃখজনক ভাবে নতুন ও পুরনো রোগীদের মধ্যে প্রতি বছর ৩২ হাজার মহিলা মারা যাচ্ছেন। সব থেকে বিস্ময়কর বিষয়, রোগিনীদের অনেকেই বংশগতভাবে জরায়ু ক্যানসারের জিন বহন করে থাকেন।
'নারায়ণা হসপিটাল, হাওড়া'-র তরফ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে হাসপাতালের গায়ানাকোলজিক্যাল ওঙ্কোলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল লিড ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ কৌস্তভ বসু জানিয়েছেন, "কলকাতা নিবাসিনী বছর ৪২-এর জনৈকা কর্মরতা মহিলাকে গত জুন মাসে ৫ ঘণ্টা ব্যাপী এক শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে। শল্যচিকিৎসার ৩ দিন পরেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে গেছেন।"
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, "রোগিনী পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। পরীক্ষায় দেখা যায় পেটের ভেতর অনেকটা জল জমেছে, দুই ডিম্বাশয়েই টিউমার রয়েছে এবং ক্যানসার পেটের ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। বায়োপসি পরীক্ষায় স্টেজ থ্রী সী ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়ে।
রোগিনীর অবস্থা দেখে প্রথমে তাঁকে তিন দফা কেমোথেরাপি ও নির্দিষ্ট জৈবিক ওষুধ দেওয়া হয়।
এরপর রোবটিক পদ্ধতিতে 'সিআরএস' শল্যচিকিৎসা এবং একই দিনে 'হাইপেক' পদ্ধতিতে সিসপ্লাটিন নামের কেমোথেরাপির একটা ওষুধ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে রোগিনীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়।"

Comments
Post a Comment