সতর্কতাই ক্যানসারের অন্যতম সুরক্ষা কবচ : ডাঃ এস এল এন চন্দ্রমোহন


হীরক মুখোপাধ্যায় 

বারাসাত (২৮ জুলাই '২৬):- শীঘ্র শনাক্তকরণ, ঝুঁকি প্রশমন ও সহায়তা-কে লক্ষ্যে রেখে গতকাল সমগ্র বিশ্বে গতকাল পালিত হল 'বিশ্ব মস্তক ও গ্রীবা ক্যানসার দিবস' (World Head & Neck Cancer Day)।

'বিশ্ব মস্তক ও গ্রীবা ক্যানসার দিবস' উপলক্ষ্যে নারায়ণা হসপিটাল বারাসাত-এর এর 'মস্তিষ্ক ও গ্রীবা ক্যানসার' বিভাগের সহাযোগী পরামর্শদাতা চিকিৎসক এস এল এন চন্দ্রমোহন (Dr. S L N Chandramohan, Associate Consultant, Head & Neck Oncology, Narayana Haospital Barasat) এই রোগ সম্পর্কে যা জানিয়েছেন তা সংক্ষেপে অনেকটা এরকম :-

▪︎ সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী ক্যানসার আক্রান্ত প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে ২৬ জন মাথা ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত। 

শুধু তাই নয় পর্যবেক্ষণ এটাও বলছে প্রতি ৩৩ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন মাথা ও গলার ক্যানসারের শিকার হতে পারেন।

▪︎ অন্যদিকে প্রতি ১০০ জন ক্যানসার রোগে পীড়িত মহিলার মধ্যে মাথা ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলা থাকেন ৮ জন।

দেখা গেছে প্রতি ১০৭ জন মহিলার মধ্যে ১ জনের মাথা ও গলার ক্যানসার হওয়ার প্রবণতা আছে। 

কেন হয় এই রোগ ? 

প্রাথমিক অবস্থায় উপসর্গকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই মানুষের শরীরের মাথা ও গলায় নীরবে বাসা বাঁধে ক্যানসার।

কী দেখলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে ?

যদি মুখ, মুখগহ্বর বা গলার কোনো অংশে অসাড়তা দেখা যায়।

যদি মুখের ভেতর সাদা বা লাল দাগ দেখা যায়। 

যদি দেখা যায় মুখের ঘা দু'সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সারছে না।

যদি দেখা যায় কানে ব্যথা।

যদি ঘাড় অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যায় বা গাঁটের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।

যদি তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলার স্বর ভাঙা অবস্থায় থাকে বা কর্কশ হয়ে যায়।

যদি দীর্ঘদিন ধরে গলায় ব্যথা থাকে।

যদি খাবার গিলতে অসুবিধা হয়।

যদি হঠাৎ ওজন কমে যায়।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা না বললেই নয়, বিশ্বে মুখগহ্বরের ক্যানসারের রোগীর সংখ্যার দিক থেকে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। ভারতে মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীই তামাক বা তামাকজাত সামগ্রী সেবন সহ মদ্যপানে আসক্ত।

শরীরের কোন কোন অংশের চিকিৎসা মাথা ও গলার ক্যানসার বিভাগে হয় ?

এই বিভাগের মধ্যে মুখগহ্বর, গলা, নাকের অভ্যন্তরীণ অংশ, স্বরযন্ত্র এবং লালাগ্রন্থির ক্যানসার অন্তর্ভুক্ত।

কথা প্রসঙ্গে ডাঃ এস এল এন চন্দ্রমোহন জানিয়েছেন, "সতর্কতাই ক্যানসারের অন্যতম সুরক্ষা কবচ। তাই দিনের শুরুতে ও দিনের শেষে প্রত্যেক মানুষের কিছু সময় নিজের স্বাস্থ্যর দিকে নজর রাখা উচিত। কারো শরীরে কোনো রকম অসুবিধা দেখা দিলেই অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সমস্যা বাড়তে পারে।"



Comments