কলকাতা (৪ জুন '২৬):- সত্য ঘটনা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার জন্য গত ২১ বছর ধরে বাঙালী বৈজ্ঞানিক অধ্যাপক মৃণাল ঠাকুর-এর গবেষণা ভাতা আটকে রেখেছে 'দ্য রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমী অব সায়েন্স'।
সম্প্রতি দিল্লীতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে অধ্যাপক মৃণাল ঠাকুর জানিয়েছেন, "২০০০ সালে ভুল তত্ত্ব-র উপর ভিত্তি করে 'নোবেল পুরস্কার' দেওয়া হয়েছে, এই তথ্যটা জনসমক্ষে তুলে ধরার পরিণাম স্বরূপ ২০০৩ সাল থেকে আমার গবেষণা সম্পর্কিত সহায়তা রাশি দেওয়া বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট সমিতি।"
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশক রূপে কর্মরত অধ্যাপক মৃণাল ঠাকুর নিজেই জানিয়েছেন, " ২৩ বার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য তাঁর নাম বিবেচিত হয়েছিল।"
দিল্লীতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে 'নোবেল কমিটি'-র বিপক্ষে গবেষণা সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা বন্ধের পাশাপাশি আরো তিনটে অভিযোগ এনে অধ্যাপক ঠাকুর জানিয়েছেন, "প্রথমতঃ, ২০০০ সালে নোবেল পুরস্কার বিতরণের সময় তাঁর আবিষ্কৃত 'নন - কনজুগেটেড কনডাকটিভ পলিমার' বিষয়টা মোটেই বিবেচনা করা হয়নি।
দ্বিতীয়তঃ, 'দ্য রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমী অব সায়েন্স'-এর ওয়েবসাইটের তথ্যাবলিতে 'পলিমার মাস্ট বি কনজুগেটেড টু বি ইলেকট্রিক্যালি কনডাকটিভ' বিষয়ক যে বক্তব্য ও ভুল তত্ত্ব পরিবেশিত হয়েছে, তা অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে।
তৃতীয়তঃ, ২০১৪ সালে 'সুপার রিসলভড ফ্লুরোসেন্স মাইক্রোস্কপি' তত্ত্বের উপর যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তা দাঁড়িয়ে আছে অধ্যাপক ঠাকুর আবিষ্কৃত 'ননলাইনিয়ার অপটিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট অ্যাণ্ড থিওরেটিক্যাল স্টাডিজ' তত্ত্বের উপর।"
অধ্যাপক মৃণাল ঠাকুর 'নোবেল পুরস্কার কমিটি'-র উপর অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছেন, "২০০০ সালে 'নন- কনজুগেটেড কনডাকটিভ পলিমার' তত্ত্বকে যেমন মান্যতা দেওয়া হয়নি, তেমনই ২০১৪ সালে 'ননলাইনিয়ার অপটিক্যাল স্টাডিজ'-কেও নজরআন্দাজ করা হয়েছে এমনকি ২০২৩ সালেও তাঁর 'অর্গানিক কোয়ান্টাম ডটস অব সাবন্যানোমিটার ডায়মেনশন' তত্ত্বকেও পাত্তা দেয়নি নোবেল পুরস্কার কমিটি।"
এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, 'কনজুগেটেড কনডাকটিভ পলিমার' আবিষ্কারের জন্য তিনজন বৈজ্ঞানিক ইতিমধ্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেও, 'নন-কনজুগেটেড কনডাকটিভ পলিমার' তত্ত্বটাকে এখনো সম্মান জানায়নি 'নোবেল পুরস্কার কমিটি'।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্প্রতি 'রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমী অব সায়েন্স' কর্তৃপক্ষের তরফে কতিপয় উচ্চপদস্থ সদস্য 'নোবেল ফাউণ্ডেশন'-এর আউটরীচ প্রোগ্রামের ব্যাপারে নিউ দিল্লিতে এসেছিলেন, সেইসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা জানিয়েছিলেন, "অধ্যাপক মৃণাল ঠাকুর-এর বিষয়টা ইতিবাচক ভাবেই বিবেচনা করা হবে।" যদিও কবে এই ঘটনায় পূর্ণচ্ছেদ পড়তে পারে সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই বলতে পারেননি ।

Comments
Post a Comment