কলকাতা (২৪ মে '২৬):- এই সময় সমগ্র বিশ্ব সহ ভারতের বুকে প্রায় সর্বাধিক চর্চিত ব্যধির নাম ক্যানসার (Cancer)।
যতদিন যাচ্ছে মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ততই যেন বেশি করে থাবা বসাতে শুরু করেছে 'ক্যানসার।' একবার এই রোগে আক্রান্ত হলে একদিকে যেমন চট করে নিষ্কৃতি পাবার তেমন কোনো উপায় নেই, তেমনই এই রোগ ব্যয়বহুলও বটে।
আজ কলকাতায় 'অ্যাপোলো হসপিটাল চেন্নাই'-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে সংস্থার উপ মহা প্রবন্ধক তথা চিকিৎসক নারায়ণ মিত্র (Dr. Narayan Mitra, Deputy General Manager-East, Apollo Hospital Chennai)-র পাশে বসে 'বিশ্বদর্পণ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে 'অ্যাপোলো স্পেশালিটি হসপিটাল তেনামপেট' (Apollo Speciality Hospital Teynampet)-এর চিকিৎসক তথা মেডিক্যাল ওঙ্কোলজি বিভাগের পরামর্শদাতা চিকিৎসক নারায়ণ ভি (Dr. Narayan V, Consultant Medical Oncology) জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু তথ্য প্রদান করেছেন।
কখন নিজেকে পরীক্ষা করতে হবে :-
মনে রাখা প্রয়োজন 'ক্যানসার'-এর প্রথম বা দ্বিতীয় পর্বে রোগ সনাক্ত করা গেলে 'রেডিয়েশন' কিংবা 'কেমো' বা কিছু ওষুধের মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করার সম্ভাবনা থাকলেও তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপ ব্যয়বহুল হবার পাশাপাশি সমস্যাবহুলও বটে। তাই যদি শরীরে 'ক্যানসার' থাবা বসানোর আগেই রোগটা সনাক্ত করা সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে রোগী, রোগীর পরিবার এবং দেশের পক্ষেও এটা ইতিবাচক দিক বলে চিহ্নিত হয়েছে।
তাই একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে নরনারী নির্বিশেষে সকলকেই বছরে নিয়ম করে কয়েকটা পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
এই পর্যায়ে বছরে কম করে একবার কোলোনোস্কোপি এবং 'প্যাপ টেস্ট' (জরায়ু মুখের লালা ও কোষ পরীক্ষা) করে দেখে নেওয়া দরকার।
৪৫ উর্ধ প্রত্যেক নারীর 'ম্যামোগ্রাম' করে দেখে নেওয়া দরকার যে তিনি আদৌ নিরাপদ কিনা !
যে সমস্ত ধূমপায়ী নরনারী গত ১৫ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট করে সিগারেট সেবন করে এসেছেন বা এখনো ধূমপানের মজা নিয়ে চলেছেন তাঁদের অবশ্যই একবার 'লো ডোজ সিটি স্ক্যান' করে নিজের শরীরের অবস্থা জেনে রাখা ভালো।
এর পাশাপাশি প্রত্যেক বয়স্ক পুরুষদের অন্ততঃ একবার 'পিএসকে' বা 'পলিস্যাকারাইড কেরেস্টিন' পরীক্ষা করে ফলাফল জেনে রাখা দরকার।
না এখানেই শেষ নয়, যে বা যাঁরা নিয়মিত মদ্যপান করে থাকেন বা ইতিমধ্যে 'লিভার সিরোসিস'-এ ভুগছেন তাঁদের ছয় মাস বাদে বাদে একবার করে 'ইউএসজি' এবং 'এএফপি ব্লাড টেস্ট' করে নিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন।
আলাপচারিতার সময় চিকিৎসক নিরঞ্জন ভি আরো বলেছেন, "পরিসংখ্যান বলছে মহিলা (৪০%)-দের থেকে পুরুষ (৬০%)-দের শরীরে 'ক্যানসার' বেশি পাওয়া যাচ্ছে। 'ক্যানসার' পীড়িত ব্যক্তিরা ৯০% জীবনশৈলী সংক্রান্ত কারণে অসুস্থ হলেও ১০%-এর অসুস্থতার পেছনে থাকে বংশগতির জটিল বিষয়।"
চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য পরিবেশন করতে গিয়ে চিকিৎসক নিরঞ্জন ভি আরো বলেছেন, "খনি, পাথর খাদান বা পাথর কুচি করার কারখানা, আসবাবপত্রের কারখানা এবং বস্ত্রবয়ন কারখানাতেও যাঁরা কাজ করছেন তারা মোটেও নিরাপদ নন।" তাই সাবধানে মার নেই, শরীরে পাকাপাকিভাবে 'ক্যানসার' বাসা বাঁধার আগেই যদি প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে তাকে প্রতিরোধ করা যায় তার থেকে বোধহয় ভালো কিছুই হতে পারে না।
প্রখর গরমের সময় যে সকল 'ক্যানসার' আক্রান্ত ব্যক্তিদের 'কেমো' কিংবা 'রেডিয়েশন' চলছে তাঁদের জীবন এমনিতেই ওষ্ঠাগত হবার জোগাড়। দৈনন্দিন স্নান তো করতেই পারছেন না উপরন্তু ঘাম এবং গরম। এই ধরনের ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে চিকিৎসক নিরঞ্জন ভি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন :-
"চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে প্রত্যেকদিন অন্ততঃ ২ থেকে ৩ লিটার জল খেতে হবে।
নিয়মিত ডাব বা নারকেলের জল খেতে হবে।
খুব বেশি মিষ্টি নয় এমন ফল খেতে হবে।
দুধ, টক দই বা দুগ্ধজাত সামগ্রী দিনে হাফ লিটারের বেশি খাওয়া যাবে না।
মাছ বা মুরগির মাংস পরিমিত মাত্রায় খাওয়া গেলেও খাসী/পাঁঠা/ভেড়া/গরু/মহিষের মতো লাল মাংস না খাওয়াই বাঞ্ছনীয়।
চিনি খাওয়া চলবে না।"
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, এই বিষয়ে আর একটা বিষয় না বললেই নয়, শরীরে 'রেডিয়েশন' কিংবা 'কেমো' দেওয়ার সময় 'ক্যানসার' পীড়িত ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে ভয়ঙ্কর দুর্বল হয়ে পড়েন। এই সময় অনেকেই অসতর্ক মুহূর্তে পড়ে গিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ পড়লে তাঁর নিকট আত্মীয়দের সাথে যাতে সহজে যোগাযোগ করা যায় সেহেতু প্রতি রোগীর বুক পকেটেই ঠিকানা সম্বলিত একটা পরিচয়পত্র থাকা দরকার, যেখানে রোগীর ব্লাড গ্রুপের পাশাপাশি কোনো একজন নিকট আত্মীয়র নাম ও ফোন নম্বরটাও লেখা থাকা প্রয়োজন, যাতে করে দরকারে যোগাযোগ করা যায়।



Comments
Post a Comment