কলকাতা (১৯ এপ্রিল '২৬):- আজকের দিনে মানুষ অনেক বিষয় সচেতন হলেও শুধুমাত্র প্রচার বা উপযুক্ত তথ্য পরিবেশন কিংবা সচেতনতার অভাবে 'স্বতঃ অনাক্রম্য রোগ' বা 'নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা সৃষ্ট রোগ' (Auto Immune Diseases) সম্পর্কে সেই অর্থে সচেতন নয়। আর এই অজ্ঞতার কারণেই আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে তাল মিলিয়ে ভারতেও নীরবে প্রভাব বৃদ্ধি করছে এই রোগ।
খুব সংক্ষেপে বলতে হলে 'স্বতঃ অনাক্রম্য রোগ' এমন এক ধরণের ব্যধি যেখানে মানুষের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System) ভুলবশতঃ দেহের সুস্থ কোষ বা অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে বহিরাগত ক্ষতিকর জীবাণু মনে করে আক্রমণ করে বসে এবং অটো অ্যান্টিবডি তৈরি করে শরীরের অভ্যন্তরে সমস্যা সৃষ্টি করে।
সমগ্র বিশ্বে রিউম্যাটয়েড আর্থারাইটিস, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস, সোরাইসিস, মাল্টিপল স্কেলরোসিস, লুপাস-এর মতো শতাধিক রোগকে 'স্বতঃ অনাক্রম্য রোগ' বা 'অটো ইমিউন ডিজিজেস'-এর অধীনে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী 'স্বতঃ অনাক্রম্য রোগ'-এর প্রভাবের দিকে লক্ষ্য রেখে ইতিমধ্যে মার্চ মাসকে 'স্বতঃ অনাক্রম্য রোগ' সচেতনতা মাস হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে।
এই রোগ ও মানব শরীরে এর প্রভাব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে 'এম্স' কল্যাণীর চিকিৎসক ঋতস্মান বৈশ্য বলেছেন, "সমীক্ষা ও তথ্য অনুযায়ী এই রোগে মহিলারা বেশি আক্রান্ত হন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাও দেখা গেছে যে বংশগত কারণেও মানবশরীরে এই ধরণের রোগ দেখা যায়। তবে মাথায় রাখতে হবে এই রোগ শুধু মানব শরীরের অস্থিসন্ধিতেই দেখা যায় না বরং শরীরের নানা স্থানেই এই রোগ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।"
এই রোগের নানাবিধ লক্ষণ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চিকিৎসক বৈশ্য জানান, "অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা সন্ধিস্থল শক্ত হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি, চামড়া লাল হয়ে যাওয়া বা প্রদাহ, পেট বা অন্ত্রে ব্যথা বা হজমে সমস্যা, মাঝেমধ্যে জ্বর আসা 'স্বতঃ অনাক্রম্য রোগ'-এর সাধারণ লক্ষণ রূপে চিহ্ণিত।"
সাধারণ জনগণকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে গিয়ে চিকিৎসক বৈশ্য অবশ্য বলেছেন, "এই ধরনের রোগের সেই অর্থে নিরাময় না হলেও জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং কিছু ওষুধ প্রয়োগ বা ক্ষেত্রবিশেষে শল্যচিকিৎসার সহায়তা নিয়ে এই রোগকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।"


Comments
Post a Comment