কলকাতা (১৮ এপ্রিল '২৬):- বহির্চিকিৎসা বিভাগ (Out Patient Department)-এ চিকিৎসা করাতে আসা দিব্যাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী রোগীদের সুবিধার্থে অদূর ভবিষ্যতে বিশেষ সদর্থক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে কল্যাণীতে অবস্থিত 'অখিল ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান সংস্থান' (All India Institute of Medical Sciences, Kalyani) সংক্ষেপে 'এআইআইএমএস' (AIIMS) বা 'এম্স'।
আজ এক বেসরকারী সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে এই কেন্দ্রীয় সরকারী সংস্থার কার্যপালক নির্দেশক প্রাধ্যাপক (ডঃ) অরবিন্দ সিনহা [Professor (Dr.) Arvind Sinha, Executive Director, AIIMS, Kalyani] জানিয়েছেন, "যে সকল দিব্যাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী রোগীরা আমাদের বহির্চিকিৎসা বিভাগে নতুন রোগী রূপে চিকিৎসা করাতে আসছেন, এই মুহূর্তে তাঁরা নাম নথিভুক্ত করার সময় বিশেষ সুবিধা না পেলেও, অদূর ভবিষ্যতে তাঁদের সুবিধার্থে সদর্থক পরিকল্পনা রূপায়ণের কথা ভাবা হচ্ছে।"
ডঃ সিনহা আজ সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানান, "যে সময় কল্যাণীতে এম্স চালু হয়েছিল, সেই সময় থেকে দীর্ঘদিন নতুন ও পুরনো রোগীরা বহির্চিকিৎসা বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য একটা নির্দিষ্ট এলাকাতে গিয়েই জমায়েত হতেন এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে তবেই চিকিৎসার লাভ গ্রহণ করতে পারতেন। এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে জটিলতার সাথে সাথে দুপক্ষেরই সময়ের অপচয় হত।
গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে পুরনো রোগীরা সকাল আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে নির্দিষ্ট প্রমাণ দেখিয়ে অন্য স্থান দিয়ে অতি সহজেই হাসপাতালের বহির্চিকিৎসা বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
তবে এই মুহূর্তে যে সকল দিব্যাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী রোগীরা বহির্চিকিৎসা বিভাগে প্রথমবার নিজেদের নাম লেখাতে বা দেখাতে আসছেন তাঁরা এই মুহূর্তে বিশেষ সুবিধা বা ছাড় না পেলেও অদূর ভবিষ্যতে বহির্চিকিৎসা বিভাগে চিকিৎসা করাতে আসা দিব্যাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী রোগীদের বিষয়টাও সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবে এম্স কল্যাণী কর্তৃপক্ষ।"
বলে রাখা ভালো, শুরুর সময় থেকে এম্স কল্যাণীর বহির্চিকিৎসা বিভাগে চিকিৎসার সুবিধা নেওয়ার জন্য নতুন ও পুরনো রোগীরা ভোর ৬ টা থেকে হাসপাতালের গেটে জমায়েত হয়ে যেতেন। পরে টোকেন তুলে, নাম রেজিস্টার করিয়ে তবেই চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন রোগীরা। সংস্থার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ও পুরনো রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মানবিক প্রয়াসের কারণে এখন বেলা সাড়ে দশটা নাগাদও যদি কোনো রোগী আসেন, সেক্ষেত্রে সেই রোগীও পরিষেবা পাচ্ছেন বলে লাভার্থীরাই চারদিকে দশমুখে প্রচার করছেন।


Comments
Post a Comment