কলকাতা (১৮ মার্চ '২৬):- কর্মক্লান্ত ও সংসারের একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য নিষ্কৃতি পেতে কেই বা ঘরের বাইরে একটু ঘুরে বেড়াতে চায় না !
আজকে আমরা আপনাদের শোনাব প্রকৃতির মায়াময় পরিবেশে অবস্থিত সেই স্থানের কথা যেখানে একদিকে যেমন পাওয়া যাবে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাথা গোঁজার আস্তানা, তেমনই অন্যদিকে মিলবে গ্রীষ্মের জনমানবশূন্য দুপুরে জলাভূমির বুকে সংযমী সাধকের মতো সারিবদ্ধভাবে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শ্বেত বলাকাদের দর্শন।
চলুন তবে সংক্ষেপে শুনে নেওয়া যাক উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার অধীন হাড়োয়ার 'জলছবি ইকো রিসর্ট'-এর কথা। এই পর্যন্ত পড়েই যাঁরা ভ্রুঁ কুঁচকে ভাবছেন কলকাতা বা নিউটাউনের আশেপাশে যখন নামীদামি বাণিজ্যিক সংস্থার অগুন্তি দর্শনীয় রিসর্ট রয়েছে, তখন শুধু শুধু হাড়োয়ায় যেতে হবে কেন ?
সঙ্গত প্রশ্ন, তবে এর উত্তরটা শুনলে বেশ কিছুটা থমকে যাবেন।
আচ্ছা বলুন তো, কলকাতা বা তার আশেপাশের কোন রিসর্টে আপনি নিজের হাতে মাছ ধরার অনুমতি বা সুযোগ সুবিধা পাবেন ?
সম্ভবতঃ সেরকম সুযোগ কোথাও নেই তাই না ! হ্যাঁ এটা হাড়োয়ার 'জলছবি ইকো রিসর্ট'-এর অন্যতম এক ঘোষিত সুযোগ।
এর পাশাপাশি এই রিসর্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহক বা অতিথিবর্গকে যেমন স্থানীয় হাড়োয়া রোড রেল স্টেশন থেকে রিসর্টে নিয়ে আসেন তেমনই পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করেন।
শুধু তাই নয়, যদি কোনো অতিথি বেড়াচাঁপা চন্দ্রকেতু গড়, ধান্যকুড়িয়া রাজবাড়ী বা বসিরহাট মহকুমার অধীন অন্যান্য দর্শনীয় স্থান দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ অতিথিদের সেসব আবদারও হাসিমুখে মেটান।
এবার নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন, ওখানে এমন কী আছে যার কারণে ওখানে যাওয়া উচিত !
একদম সঠিক প্রশ্ন করেছেন। ১৮ বিঘা জলাভূমি দিয়ে ঘেরা ৯ বিঘার 'জলছবি ইকো রিসর্ট'-এ নিজে না গেলে বুঝতেই পারবেন না বসিরহাট মহকুমাও অতিথি সৎকারে আজ কতটা উন্নতি সাধন করেছে।
ছোট ছোট গাছ দিয়ে ঘেরা রিসর্টের লনে বাড়ির খুদে সদস্যরা যেমন ছোটাছুটি বা খেলাধুলা করতে পারবে, তেমনই অন্যান্য আমোদ প্রমোদের পাশাপাশি জলাভূমির জলে সাঁতারও কাটতে পারবে। বর্ষা বা শীতের প্রারাম্ভে এলে যে কেউ রিসর্টের নিজস্ব জলাভূমিতে প্যাডেল বোটিংয়ের আনন্দও নিতে পারবে।
আরে না না, আমি শুধু বাচ্চাদের কথা বলছি না। যুবক-যুবতী, প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে আবালবৃদ্ধবনিতারাও এখানকার 'জ্যাকুজি'-র জলে শরীর ডুবিয়ে আনন্দ নিতে পারেন।
এখানকার খাওয়া সেরকম আহামরি কিছু না হলেও, একেবারে ফেলে দেওয়ারও নয়। বাঙালি ও ভারতীয় ঘরানার খাবারের পাশাপাশি এখানে চাইনিজ, তন্দুরি ও কন্টিনেন্টাল খাবারও পাওয়া যায়, সাথে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের পানীয়ের সম্ভার।
হ্যাঁ, এবার বলব খরচের বিষয়। এখানে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৩,১৫০ টাকা এবং কর সহযোগে যেমন ঘর রয়েছে তেমনই প্রতিদিন ১০,০০০ টাকা এবং কর সহ থাকার ঘরেরও ব্যবস্থা আছে। এই খরচের মধ্যে ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস ও ব্রেকফাস্ট থাকলেও দুপুর, সন্ধ্যা বা রাতের মূল খাওয়া বা অন্যান্য কোনো খাবার বা পানীয়ের খরচ ধরা নেই। মোদ্দা কথা খাবার খরচ পুরো আলাদা।
মোটামুটি সবই তো শুনলেন, কিন্তু শুনলেই তো হবে না, যেতে গেলে তো ঠিকানা চাই, তাই না।
ঠিকানা :-
জলছবি ইকো রিসর্ট
ঝাঞ্জা বিশ্বাসপাড়া
পোস্ট অফিস : খাসবালান্দা, থানা : হাড়োয়া
জেলা উত্তর ২৪ পরগণা
পিনকোড : ৭৪৩৪২৫
মোবাইল : ৭৩১৮৬ ৫৫৫৩৮, ৮৬৭০২ ৪০২৮৪
ঠিকানার সুলুক সন্ধান :-
আজকালকার দিনে গুগল নেভিগেটিং সিস্টেম যেখানে প্রায়শই মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ঠিকানায় পৌঁছানোর আটঘাট বেঁধে তবেই পথে নামা উচিত। নচেৎ, তালকানার মতো অনাবশ্যক সমস্যায় পড়তে হবে।
সড়কপথে -
হাওড়া বা কলকাতার দিক দিয়ে এলে প্রথমে মা ফ্লাইওভার ধরে বাম দিকে 'আইটিসি সোনার' ও 'আইটিসি রয়েল', জে ডাব্লু ম্যারিওট-কে রেখে চিনারপার্ক, লাউহাটি হয়ে রিসর্টে পৌঁছানো যাবে।
নদীয়া, ব্যারাকপুর বা বনগাঁ থেকে আসতে হলে আগে বারাসাত চাঁপাডলি মোড়ে চলে আসুন, তারপর রাজ্য সড়ক ২ (টাকি রোড) ধরে বেড়াচাঁপা চলে আসুন। বেড়াচাঁপা মোড় থেকে ডানদিকের হাড়োয়া রোড ধরে এগিয়ে গিয়ে হাড়োয়া ব্রিজে ওঠার ঠিক আগেই বাম দিকের রাস্তা ধরে এগোলেই রিসর্টে পৌঁছে যাওয়া যাবে।
রেলপথে -
সময় সাশ্রয়ী আরামদায়ক রেল সফর করতে হলে, শিয়ালদহ হাসনাবাদ শাখার যেকোনো ট্রেনে উঠে পড়ুন। নামুন হাড়োয়া রোড স্টেশনে। তারপর অটো, টোটো বা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে পৌঁছে যাওয়া যাবে 'জলছবি ইকো রিসর্ট'-এ।
ছবি :- সপ্তর্ষি বিশ্বাস






Comments
Post a Comment