মহাজনদের ঋণের টাকা মেটানোটাই এই মুহূর্তে আলুচাষীদের একমাত্র চিন্তার বিষয় : অশোক দাস


হীরক মুখোপাধ্যায় 

কলকাতা (১৩ মার্চ '২৬):- "আলু তোলার মরশুম তো প্রায় শেষ হতে চলল, এখনই যদি আলুচাষীদের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আলু কেনা শুরু না করে; তবে মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা মেটাতে না পেরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কত গরীব আলুচাষী ও তাদের পরিবার যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন !" ঠিক এই ভাষাতেই গতকাল পড়ন্ত বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মতৎপরতার উপর জ্বলন্ত প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন 'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত'এর রাজ্য মহাসচিব অশোক দাস

শ্রী দাস গতকাল কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গের আলুচাষীদের দুর্দশার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, "আলু চাষ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে চাষীরা প্রভূত খরচ বা বাইরে থেকে ধার করে করে বসে আছে, তার উপর আলু সংরক্ষণ করার জন্য আগে যে বস্তা ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১১ টাকা দরে বিক্রি হত, এখন সেই বস্তা কিনতে আলুচাষীদের খরচ করতে হচ্ছে ২২ টাকা।

অথচ মধ্যসত্তাভোগী ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আলু ৩.৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ টাকা দরে তাদের কাছে বিক্রি করতে একপ্রকার বাধ্য করছে আলুচাষীদের। 

এইরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে আলুর বীজ কেনা, জমি তৈরি করা, সার কেনা, সেচ দেওয়া থেকে ক্ষেতমজুরদের মজুরির খরচ কিছুই তো উঠবে না !"

বলে রাখা ভালো, এই বছর আলুর ব্যাপক ফলন হওয়ার ফলে চাষীরা নিজেদের দাবী মতো ক্রেতাদের কাছ থেকে আলুর দাম তুলতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে।

যদিও আলুচাষীদের এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে ধর্মতলার ধর্ণামঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলুচাষীদের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আলু কিনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষিজ বিপণন বিভাগ 'পটেটো প্রোকিওরমেন্ট স্কিম ২০২৬' ঘোষণা করে জানিয়েছিল, 'প্রতি কেজি ৯.৫০ টাকা দরে প্রতি চাষীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ বস্তা আলু কিনে নেবে সরকার।'

'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত'-এর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ মহাসচিব অশোক দাস গতকাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "এই মুহূর্তে মধ্যসত্তা কারবারিরা ৫০ কেজির আলু ভরতি বস্তা তাদের কাছে খুব বেশি হলে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে আলুচাষীদের একরকম বাধ্য করছেন, এই রকম আর কিছুদিন চলতে থাকলে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা মেটাতে না পেরে গ্রাম বাংলার কত আলুচাষী ব্যক্তিগত ভাবে বা সপরিবারে আত্মহত্যা করবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।"

আলুচাষীদের কাছ থেকে কেজি প্রতি ৩.৫০ থেকে ৪ টাকা দরে ব্যবসায়ীরা আলু কিনলেও খোলা বাজারে সেই আলু কেজি প্রতি ১০ বা ততোধিক টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী সমাজ। ফলতঃ, একদিকে যেমন রাজ্যের সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন না, তেমনই চরম দুরবস্থার মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের আলু উৎপাদকগণ।

'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত' যখন আলুচাষীদের দুরবস্থা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর বিষোদ্গার করছে, ঠিক সেই সময় 'জনতা দল ইউনাইটেড'-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার তরফ থেকে টিপ্পনি কেটে বলা হয়েছে, "তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিকল্পনা ও পরিকাঠামোর অভাবে আলুচাষীরা আজ সর্বনাশের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সরকারের স্থায়িত্ব যত বাড়বে রাজ্যবাসীকে তত বেশি ভুগতে হবে।"

Comments