বিশ্ব বৃক্ক দিবস উদযাপন করল কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউট


হীরক মুখোপাধ্যায় 

কলকাতা (১২ মার্চ '২৬):- সমগ্র বিশ্বের সাথে তালে তাল মিলিয়ে আজ 'বিশ্ব বৃক্ক দিবস' (World Kidney Day) উদযাপন করল 'কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউট' (Kolkata Kidney Institute)।

'বিশ্ব বৃক্ক দিবস' উপলক্ষ্যে জনগণকে বৃক্কের রোগ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে আজ সকালে ৮২৩, কালিকাপুর রোড থেকে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, রোগী এবং সাধারণ নাগরিকদের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরিয়ে রুবি মোড় হয়ে 'কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউট'-এর প্রবেশদ্বারে এসে শেষ হয়।

কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বিশ্ব বৃক্ক দিবস'-এর শুভারম্ভ করার আগে 'কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউট'-এ আহূত এক সাংবাদিক সম্মেলনকে সম্বোধন করতে গিয়ে সংস্থার মূল চালিকাশক্তি তথা প্রবীণ চিকিৎসক প্রতীক দাস (Dr. Pratik Das, Nephrologist) বলেন, "বর্তমানে বিশ্ব সহ আমাদের দেশেও ঘাতক ব্যধি রূপে নিজেকে চিহ্নিত করেছে বৃক্ক (Kidney) সম্পর্কিত রোগ। বর্তমান সময়ের কিছু সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যেখানে প্রতি ১০০ জনে 'ক্রনিক কিডনি ডিজিজ' সংক্ষেপে 'সিকেডি' (CKD) রোগী ছিল ১১ জন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেই সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৬ জন (বাস্তবে ১৬.৪ শতাংশ)। শুধু তাই নয় এই মুহূর্তে ভারতের ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ বৃক্ক সম্পর্কিত নানান ব্যধিতে ভুগছেন।"

ডাঃ দাস নিজের অনুভব প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, "চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সকল রোগীদের মধুমেহ বা রক্তে শর্করার আধিক্য আছে তাদের শতকরা ৫০ ভাগই ভবিষ্যতে বৃক্ক রোগের শিকার হন, যে সকল রোগীরা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাদের মধ্যে থেকে শতকরা ২৫ ভাগ লোক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের আরো ২৫ শতাংশ মানুষও বৃক্ক রোগের আক্রান্ত হন।"

যে সময় দেশের প্রায় ৫০ ভাগ জনগণই কোনো না কোনো ভাবে বৃক্ক সম্পর্কিত রোগের শিকার, তখন এই রোগ সম্পর্কে এখন থেকেই যদি সচেতন না হওয়া যায় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে অতিব ব্যয়বহুল বৃক্করোগও দেশের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। 

বৃক্ক সম্পর্কিত রোগের শেষ পর্যায়ে রোগীর শরীর থেকে রোগগ্রস্ত কিডনি অপসারণ করে রোগমুক্ত সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। কিন্তু অজ্ঞতা বা খারাপ জীবনশৈলীর কারণে যদি দেশের অধিকাংশ মানুষই কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কার কিডনি কাকে দেওয়া হবে সেটাই এখন দেশ তথা বিশ্বের মাথাব্যথার এক বড়ো কারণ হয়ে উঠেছে।

আর এই জ্বলন্ত সমস্যা থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বছরে নিদেন পক্ষে একবার চিকিৎসকের পরামর্শে বৃক্ক বা কিডনি সম্পর্কিত কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নেওয়াটা যে কতটা প্রয়োজনীয় সেটা নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলার অবকাশ রাখে না।


Comments