শ্রমমন্ত্রীর কথায় মানিকতলা ই এস আইয়ের আইটিইউয়ে বৃদ্ধি পেল ২২টা শয্যা, অধ্যক্ষ বললেন বাড়লো ১৯ টা শয্যা
কলকাতা (২৬ ফেব্রুয়ারী '২৬):- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রমমন্ত্রী ও 'ই এস আই হসপিটাল, মানিকতলা'-র অধ্যক্ষের শয্যা সংখ্যা সংক্রান্ত অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য আজ আক্ষরিক অর্থেই জন্ম দিল এক মহা বিতর্কের, আর এই মহা বিতর্ককে সাথে নিয়েই 'মানিকতলা ই এস আই হসপিটাল' (Manicktala ESI Hospital)-এ নতুনভাবে পথচলা শুরু করল 'ইন্টেনসিভ থেরাপি ইউনিট' (Intensive Therapy Unit) সংক্ষেপে 'আই.টি.ইউ' (ITU)।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী "আগে থেকেই এখানে আই.সি.ইউ ও আই.টি.ইউ-এর ব্যাবস্থা থাকলেও, এবার আরো বেশি রোগীদের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।"
শ্রমজীবী মানুষদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান ও উন্নততর চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে কর্মচারী রাজ্য বীমা হাসপাতাল মানিকতলা-র নবনির্মিত 'আই.টি.ইউ ব্লক' (ITU Block)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ চিকিৎসক মহুয়া মুখোপাধ্যায় (Dr. Mahuya Mukhopadhyay, Asst. Superintendent, ESI Hospital, Manicktala)-কে সাথে নিয়ে হাসপাতালের অধ্যক্ষ চিকিৎসক ইন্দ্রনীল দাস (Dr. Indranil Das, Superintendent, ESI Hospital, Manicktala) সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, "আগে এই হাসপাতালে আই.টি.ইউ বিভাগে শয্যা সংখ্যা ছিল ৩৩ আজ আরো ১৯ টা শয্যা বৃদ্ধি পেয়ে সংখ্যাটা বেড়ে হল ৫২।"
অন্যদিকে মানিকতলা ই এস আই হসপিটাল সংলগ্ন 'নার্সেস ট্রেনিং সেন্টার'-এ দাঁড়িয়ে নবনির্মিত 'আই.টি.উ ব্লক'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম, আইন ও বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী মলয় ঘটক (Maloy Ghatak, MIC, Department of Labour, Law & Judiciary, Government of West Bengal) পরিস্কার বাংলা ভাষায় জানান, "আগে এখানে আই.টি.ইউ বিভাগে ১৬ টা শয্যা ছিল, আজ আরো ২২ টা শয্যা বৃদ্ধি পেল। পশ্চিমবঙ্গের অনেক বড়ো হাসপাতালের আই.টি.ইউ বিভাগে একসাথে এতগুলো শয্যা সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় না।"
'মানিকতলা ই এস আই হসপিটাল'-এর নবনির্মিত 'আই.টি.ইউ ব্লক'-এর শয্যা সংখ্যার বিষয়ে বিভাগীয় মন্ত্রী ও হাসপাতাল অধ্যক্ষের দুরকম বিবৃতি সামনে আসতেই আসরে নামে পশ্চিমবঙ্গের সবকটা বিরোধী রাজনৈতিক দল।
রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর বক্তব্যের সারমর্ম, "হাসপাতালের অধ্যক্ষের বক্তব্যকে মান্যতা দিলে বলতে হবে বিভাগীয় মন্ত্রী তাঁর দপ্তরের কাজকর্মের বিষয়ে কিছুই খোঁজ খবর রাখেন না। সারাদিন উন্নয়নের মিথ্যা ফিরিস্তি দিতে দিতে তিনি ইএসআই হাসপাতালে এসেও নির্ভেজাল মিথ্যা তথ্য পেশ করেছেন।
আর উল্টো দিকে মন্ত্রীর বক্তব্যকে সঠিক মানতে হলে বলতেই হবে অযোগ্য ও অপদার্থ আধিকারিকদের ভ্রষ্টাচারের সাথে একা লড়তে না পেড়ে তিনি প্রকৃত বিষয়টা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছেন।"
বলে রাখা ভালো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুজিত বসু, মানিকতলা বিধানসভা নির্বাচনী ক্ষেত্রের বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে, কলকাতা পৌরনিগমের বস্তি উন্নয়ন, পরিবেশ ও ঐতিহ্য দপ্তরের মেয়র পারিষদ সদস্য স্বপন সমাদ্দার-এর উপস্থিতিতে শ্রমমন্ত্রী যখন হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার বিষয় উপস্থাপন করছিলেন তখন অনুষ্ঠান মঞ্চের ডান পাশে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ চিকিৎসক ইন্দ্রনীল দাস ও সহকারী অধ্যক্ষ চিকিৎসক মহুয়া মুখোপাধ্যায়।
আজ সকাল ১০টার আশেপাশে সাংবাদিকরা নবনির্মিত আইটিইউ ব্লক-এর খবর সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হলে প্রথমে তাঁদের যেখানে বসানো হয় সেখান থেকেই প্রথম শোনা যায়, "আগে এই হাসপাতালে ১৬ টা আই.সি.ইউ ও ১৬ টা আই.টি.ইউ শয্যা ছিল, আজ আরো কিছু শয্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।"
প্রথমে হাসপাতাল থেকে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, বর্তমানে আই.সি.ইউ ও আই.টি.ইউ মিলিয়ে শয্যা রয়েছে ৩২টা, পরে হাসপাতালের অধ্যক্ষ জানান এই মুহূর্তে ৩৩ টা কার্যকর অবস্থায় রয়েছে, আজ থেকে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ৫২।
আবার বিভাগীয় মন্ত্রী শুধু উদ্বোধনী মঞ্চের ভাষণেই নয় বরং একটা টিভি চ্যানেল সহ সমস্ত সাংবাদিকদের নিজের মুখেই জানিয়ে গেলেন, "আজ ২২ টা শয্যা বৃদ্ধি হল।"
শয্যা সংখ্যা নিয়ে মানিকতলা ই এস আই হাসপাতালের অধ্যক্ষ সাংঘাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়ে ফেলেছেন বুঝতে পেরেই আর্থিক কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে আসরে নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবারো জানায় ২২ নয় আসলে শয্যা সংখ্যা বাড়ছে ১৯ টা। তবে এক্ষেত্রেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কপাল সঙ্গ দেয়নি। কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই সংবাদমাধ্যমকে যে ছাপানো প্রেস বিবৃতি দিয়েছে সেখানে পরিস্কার ভাবে ছাপানো আছে '..... পূর্বে আমাদের হাসপাতালে ১৬ টি আই.টি.ইউ বেড কার্যকর ছিল আজ সেই পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আরও ২২টি অত্যাধুনিক আই.টি.ইউ বেড।...'
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রমমন্ত্রী এবং 'মানিকতলা ই এস আই হসপিটাল'-এর অধ্যক্ষের বক্তব্যের চরম অসঙ্গতি আজ বাস্তবিক অর্থেই জন্ম দিয়ে ফেলল এক মহা বিতর্কের।
আমজনতা সাথে সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী থেকে শুরু করে সরকারী আমলারাও বুঝে পাচ্ছেন না আজ নতুন করে ঠিক কটা শয্যা বাড়লো, ২২ টা না ১৯ টা ? যেখানে ইএসআই হাসপাতাল লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানাচ্ছে ২২ টা আইটিইউ বেড চালু হচ্ছে, সেখানে হাসপাতালের অধ্যক্ষ চিকিৎসক ইন্দ্রনীল দাস কেনো বারবার ১৯টা শয্যাবৃদ্ধির কথা বলছেন ? কে ঠিক তথ্য দিচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী না হাসপাতালের অধ্যক্ষ !
যদি অধ্যক্ষ প্রকৃত তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী ভুলভাল তথ্য পেশ করার সময় অধ্যক্ষ সেটা মন্ত্রীকে কেনো জানালেন না !
আর হাসপাতালের অধ্যক্ষের বক্তব্যই যদি বেদবাক্য-র মতো ধ্রুব সত্য হয়ে থাকে তাহলে হাসপাতাল অধ্যক্ষের মুখনিঃসৃত বক্তব্যের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরই জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তির অমিল হচ্ছে কেনো ?





Comments
Post a Comment