কেন্দ্রীয় সরকার দাবি না মানলে ১১ মার্চ থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালীন অনশনে বসতে চলেছে ইপিএস ৯৫ ন্যাশনাল অ্যজিটেশন কমিটির সদস্যবৃন্দ


হীরক মুখোপাধ্যায়

কলকাতা (১৮ ফেব্রুয়ারী '২৬):- " 'এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম '৯৫' (Employees Pension Scheme '95) সংক্ষেপে 'ইপিএস '৯৫' (EPS '95)- এর আওতাধীন কর্মচারীদের ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর দাবি সহ অন্যান্য কিছু দাবিতে নতুন দিল্লির 'যন্তর মন্তর'-এর সামনে ধরনায় বসতে চলেছে 'ইপিএস ৯৫ ন্যাশনাল অ্যজিটেশন কমিটি' (EPS 95 National Agitation Committee)-র সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ।" আজ কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য পেশ করেন ইপিএস ৯৫ ন্যাশনাল অ্যজিটেশন কমিটি'-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার অধ্যক্ষ তপন দত্ত (Tapan Dutta, President, West Bengal, EPS '95 National Agitation Committee)।

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে শ্রী দত্ত জানিয়েছেন, "মহার্ঘ্য ভাতা বাদে ন্যূনতম মূল পেনশন ৭,৫০০ টাকা, নিখরচায় পেনশন ভোগী ও তাঁর সহধর্মী বা সহধর্মিণীর চিকিৎসা, হায়ার পেনশন অন অ্যাকচুয়াল সেলারি-র উপর সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের আদেশের বাস্তবায়ন, যে সকল কর্মচারী এই মুহূর্তে 'ইপিএস ৯৫'-এর আওতার বাইরে রয়েছেন তাঁদেরও এই সুবিধা প্রদান করতে হবে ও যতদিন না এই সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত মাসে নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে-র মতো মূলতঃ চার দফা দাবিকে সামনে রেখে ক্রমশঃ দেশব্যাপী আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে 'ইপিএস ৯৫ ন্যাশনাল অ্যজিটেশন কমিটি'-র সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ।"

সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, "এই আন্দোলনের প্রথম ভাগে আগামী ৯ মার্চ সংগঠনের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক সদস্য ও সদস্যা নতুন দিল্লির যন্তর মন্তর-এর সামনে উপস্থিত হবেন।আগামী ১০ ও ১১ মার্চ যন্তর মন্তর-এর ধরনা স্থল থেকে আন্দোলন তুঙ্গে উঠবে। আন্দোলন চলাকালীন ১১ মার্চ  সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বরিষ্ঠ সদস্য ও সদস্যাদের একটা দল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শেষবারের মতো চার দফা দাবি পেশ করবেন। এইবার সরকার দাবি না রাখলে যন্তর মন্তর চত্বরেই শুরু হবে 'ইপিএস ৯৫ ন্যাশনাল অ্যজিটেশন কমিটি'-র অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচী।"

না এখানেই শেষ নয়, যদি কেন্দ্রীয় সরকার সংগঠনের দাবি না মানেন বা অনির্দিষ্টকালীন অনশন বন্ধ করার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে প্রত্যেক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজধানীর বুকেও এই অনির্দিষ্টকালীন অনশন পর্ব শুরু করবেন দেশের অগণিত 'ইপিএস '৯৫'-এর আওতাধীন পেনশন ভোগীরা।

সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে এই মুহূর্তে সমগ্র দেশে 'ইপিএস ৯৫'-এর আওতাধীন পেনশনভোগী রয়েছেন ৮১ লাখ আর পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যাটা হল ৭ লাখ ৮০ হাজার।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (Employees Provident Fund Organisation) সংক্ষেপে 'ইপিএফও' (EPFO)-র ছত্রছায়ায় ১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর পথচলা শুরু করেছিল 'এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম ৯৫'। সরকারের নীতি অনুযায়ী কর্মচারীদের মাসিক প্রদেয় অর্থের পাশাপাশি মালিকপক্ষকে মাসিক ৮.৩৩ শতাংশ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে ১.১৬ শতাংশ হারে অর্থ জমা করতে হয়। সংগঠিত ক্ষেত্রে অন্ততঃ ১০ বছর কাজ এবং ৫৮ বছরের শেষে এই পেনশন পাওয়ার কথা।

ভারত সরকার ২০১৪ সালে 'ইপিএস '৯৫'-এর আওতাধীন পেনশন ভোগীদের পেনশন মূল্য ন্যূনতম ১ হাজার টাকা করার ঘোষনা করলেও 'ইপিএফও' কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ৩৬ লক্ষের বেশি কর্মচারীকে মাসিক ১ হাজার টাকার কম পেনশন দিচ্ছে। আবার পেনশনভোগীর মৃত্যু হলে এই পেনশনটাও অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে, ফলতঃ কর্মচারী তাঁর কর্মজীবনে মোট যে টাকা জমা দিয়েছিলেন, সেটাও অধিকাংশ সময় সুদে মূলে পাওয়া হচ্ছে না কর্মচারী বা তাঁদের পরিবারের। 

Comments