বেশ কিছু শিশুর হাতে নিখরচায় গল্পের বই তুলে দিল চিল্ড্রেন'স বুক ট্রাস্ট


হীরক মুখোপাধ্যায় 

কলকাতা (২৮ জানুয়ারী '২৬):- ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলা প্রাঙ্গণে নিজেদের স্টলে আজ শিশুদের খুশির দিন (Children's Happiness Day) প্রতিপালন করল অলাভজনক প্রকাশনী সংস্থা 'চিল্ড্রেন'স বুক ট্রাস্ট' (Children's Book Trust) সংক্ষেপে 'সিবিটি' (CBT)।

শিশুদের মুখে খুশির ঝলক খুঁজে পেতে আজ বেসরকারী অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট' (Child In Need Institute) সংক্ষেপে 'সিনি' (CINI)-র কতিপয় শিশুর হাতে গল্পের বই ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন সিবিটি-র বিষয়বস্তু, যোগাযোগ এবং প্রচার প্রমুখ রানা সিদ্দিকী জামান (Rana Siddiqui Zaman, Lead Strategist, Content, Communications & Promotion, CBT) সহ অন্য অতিথিবৃন্দ।

আজ অপরাহ্ণে 'সিনি'-র সৌজন্যে 'কলকাতা পুস্তক মেলা' প্রাঙ্গণে আগত মুষ্টিমেয় শিশুদের দিয়ে 'সিবিটি'-র স্টলের দ্বারোদ্ঘাটন করেন 'গল্পদিদা' নামে সমধিক পরিচিত প্রখ্যাত গল্পকার সুদেষ্ণা মৈত্র ও সিবিটি-র অন্যতম চালিকাশক্তি রানা সিদ্দিকী জামান।

বলে রাখা ভালো, এমনিতে 'সিবিটি' ভারতের বিভিন্ন ভাষায় শিশুদের উপযোগী বই ছাপালেও 'কলকাতা পুস্তক মেলা'-র জন্য বাংলা, হিন্দী, উর্দু ও ইংরেজিতে পৃথক পৃথক নামের ও ধরণের ১ হাজার বই নিয়ে এই প্রথম কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করল 'সিবিটি'।

আজ শিশুদের মুখে সামান্য একটু খুশির ঝলক দেখার জন্য একদিকে যেমন পিছিয়ে পড়া সমাজের কতিপয় শিশু ছাত্রছাত্রীদের হাতে নিখরচায় গল্পবই ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছে, ঠিক তেমনই ৪৯তম 'আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলা' প্রাঙ্গণ থেকে 'বই সহায়তা করে, মোবাইল ক্ষতি করে' (Book Helps, Mobile Harms) নামাঙ্কিত সচেতনতামূলক এক প্রচার অভিযানেরও সূচনা করল 'সিবিটি'।

'সিনি'-পক্ষে ন্যাশনাল এডভোকেশী ম্যানেজার সুজয় রায় বলেছেন, "আজ ১৫ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে নিখরচায় গল্পের বিভিন্ন রকমের বই ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছে 'সিবিটি'।"

এই কথা আজ কারোরই অজানা নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই শিশু কিশোররা এখন বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারে না, এমনকি সাবালক না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষেত্রবিশেষে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের খাতাও খুলতে পারে না শিশু থেকে নাবালকরা, অথচ ভারতের মতো কয়েকটা দেশে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের সাথে সাথে অভিভাবকবৃন্দও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় রয়েছে।

চিকিৎসক সমাজ শিশুদের চোখ, মস্তিষ্ক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের সুস্থতার লক্ষ্যে শিশুদের মোবাইল থেকে দূরে রাখার ইঙ্গিত বা অনুরোধ করলেও অভিভাবকবৃন্দ বেশিরভাগ সময় নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার জন্য নিজেরাই শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন।

'সিবিটি', 'সিনি' এবং 'গল্পদিদা' আজ একযোগে শিশুদের মাতাপিতাদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, "শিশুদের ভবিষ্যত সুরক্ষার জন্য শিশুদের হাতে মোবাইলের বদলে বই তুলে দিন, ফিরিয়ে দিন ওদের শৈশব।"

Comments