পশ্চিমবঙ্গেও নীতিশ মডেল প্রয়োজন : অশোক দাস


হীরক মুখোপাধ্যায়

কলকাতা (৬ জানুয়ারী '২৬):- "দোষটা ঠিক কার বলতে পারব না। তবে একথা নিঃসন্দেহে ঠিক যে আশা কর্মীদের ধর্মঘট এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রভাব পড়বে," 'ন্যাশনাল হেলথ মিশন'-এর অধীন কর্মরত 'আশা' কর্মীদের ধর্মঘটের উপর নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে 'জনতা দল (ইউনাইটেড)'-এর বর্ষীয়ান নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অশোক দাস একথা জানান।

গতকাল কলকাতায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে অশোক দাস জানিয়েছেন, "আশা কর্মীদের বিষয়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকারের উপর দোষারোপ করছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারও মৌনাবস্থায় রয়েছে; ফলস্বরূপ কোনো কিছুই পরিস্কার নয়। এইরকম পরিস্থিতিতে আশা কর্মীদের অচলাবস্থার নিরসনে সরকারের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। যদি অনতিবিলম্বে আশা কর্মীদের সমস্যা নিরসন করা না যায় তবে অদূর ভবিষ্যতে পৌরাঞ্চলগুলোর স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শহুরে স্বাস্থ্য পরিষেবাও গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে বাধ্য।"

পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক অব্যবস্থার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে অশোক দাস আরো জানিয়েছেন, "এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে একদিকে যেমন উন্নয়নের ধারা অবরুদ্ধ অন্যদিকে হিংসারও অস্বাভাবিক বাড়বাড়ন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গেও বিহারের মতো 'নীতিশ মডেল' প্রযোজন।

পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের ধারা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে গেলে প্রয়োজন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আর ঠিক সেই কারণেই 'জনতা দল (ইউনাইটেড)' পশ্চিমবঙ্গের 'মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক'-এর কাছে কঠোর হাতে 'এস আই আর' সমাপন করার আবেদন জানিয়ে বলেছে, যেসব রাজ কর্মচারীরা 'এস আই আর' কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়েও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যেন অবিলম্বে ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।"

বলে রাখা ভালো, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর 'জনতা দল (ইউনাইটেড)'-এর রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং এবং কার্যনির্বাহী অধ্যক্ষ সঞ্জয় ঝাঁ-র উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ২৩টা জেলায় 'জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর পক্ষে সদস্য সংগ্রহ অভিযান সহ অন্যান্য দলীয় কার্যকলাপের নেতৃত্ব প্রদানের গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন অশোক দাস।


Comments