হীরক মুখোপাধ্যায়
কোলকাতা (৩ মার্চ '২৫):- কোনো অবস্থাতেই সর্বাধিক ২ ঘণ্টার বেশি নিম্ন স্বরে 'ইয়ার ফোন' বা 'হেড ফোন' জাতীয় সামগ্রী ব্যবহার করা উচিত নয় বলে যুবসমাজ সহ আবালবৃদ্ধবনিতাকে সতর্ক করল 'অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট অফ ইণ্ডিয়া' (Association of Otolaryngologist of India) সংক্ষেপে 'এওআই' (AOI)।'বিশ্ব শ্রবণ দিবস' (World Hearing Day) উপলক্ষ্যে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করতে এসে 'এওআই'-এর জাতীয় অধ্যক্ষ চিকিৎসক দ্বৈপায়ণ মুখার্জি (Dr. Dwaipayan Mukherjee, National President, AOI) বলেছেন,"মানুষের শ্রবণশক্তি একবার কমে গেলে তাকে কখনোই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। 'হিয়ারিং এইড' বা 'ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট'-এর সাহায্যে স্বাভাবিক শ্রবণশক্তি ফেরানো মুশকিল। সেই কারণে শুধু শিশুদের নয় সকলেরই স্বাভাবিক শ্রবণশক্তি বজায় রাখতে সচেতন থাকা উচিৎ।"
ডাঃ মুখার্জি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, "কানে শোনার ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির এক অন্যতম কারণ অতিরিক্ত হেড ফোন ব্যবহার। এক নাগাড়ে 'হেড ফোন', 'ইয়ার ফোন' জাতীয় সামগ্রী কানে গুঁজে রাখলে সাময়িক ভাবে কানে শোনার উপলব্ধি ও তীক্ষ্ণতা কিঞ্চিৎ কমে যায়। এরকম হতে হতে ক্রমশ স্থায়ী ভাবে শ্রবণ ক্ষমতা কমতে শুরু করে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে এই ব্যাপারটা চট করে বোঝাও মুশকিল।"
সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার অধ্যক্ষ ডাঃ উৎপল জানা ও সম্পাদক ডাঃ অজয়কুমার খাওয়াস-এর পাশে বসে ডাঃ মুখার্জ্জি জানিয়েছেন, "হেডফোন না ব্যবহার করাই ভাল, তবে একান্ত প্রয়োজন হলে কোনো অবস্থাতেই টানা ২ ঘন্টার বেশি নিম্ন স্বরে হেড ফোন ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এই নিয়ম না মানলে কানের শ্রবণ সংক্রান্ত স্নায়ুগুলো দ্রুত নষ্ট হতে পারে।"
জেনে রাখা ভালো, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' (World Health Organization)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বে ১০০ কোটি লোক শ্রবণ সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি আর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২০ সালে ভারতবর্ষে কমবেশি ১৮২.৪ মিলিয়ন (১৮ কোটির বেশি) মানুষ হেড ফোন ব্যবহার করতেন। ২০২৫ এর শেষে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪৪.৮ মিলিয়ন (প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি)। সুতরাং এখন থেকেই 'হেড ফোন' বা 'ইয়ার ফোন' বিষয়ে সতর্ক না হলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
Comments
Post a Comment