এই মুহূর্তে সমগ্র ভারতের মিলনভূমি হয়ে উঠেছে গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ

এম রাজশেখর 

গঙ্গাসাগর (১৪ জানুয়ারী '২৩):-
'ভারততীর্থ' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় লিখে গেছেন -
"পোহায় রজনী, জাগিছে জননী বিপুল নীড়ে
এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।"
এই কথা ঠিক যে কতটা সত্যি তা গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে হাজির না থাকলে বোধহয় মর্মে মর্মে বোঝা যেত না।


একদিকে গঙ্গাসাগর মেলাতে আসা অধিকাংশ পুণ্যার্থী যখন সাগর তটের ভিজে বালির উপর প্রায় বিনিদ্র ভাবে সারা রাত জেগে আড়ামোড়া ভাঙতে ভাাঙতে জেগে উঠছেন, ঠিক তার বিপ্রতীপে ভোর থেকেই গঙ্গাসাগরে কাতারে কাতারে পুণ্যার্থীদের আগমণ শুরু হয়েছে।


গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে কপিল মুনির আশ্রমের পাশাপাশি প্রতি বছরের মতো এবারেরও আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু নাগা সন্ন্যাসদের আখড়াগুলো। সময় যত গড়াচ্ছে অন্যান্য সাধুসন্তদের আখড়ার পাশাপাশি ভীড় জমছে নাগা সন্ন্যাসদের আস্তানার পাশে।


কিছু কিছু নাগা সন্ন্যাস তাঁদের সাধন ভজনে বাঁধা দেখা দিচ্ছে বলে যেমন ভীড় দেখলেই চোখ লাল করে যাঁর যাঁর নিজস্ব মাতৃভাষায় গাল পাড়তে পাড়তে তেড়ে উঠছে, ঠিক তেমনি বেশ কিছু নাগা সন্ন্যাস আবার 'মনের মতো দামটি পেলে' আলোকচিত্রীদের চাহিদামতো পোজ দিতেও কার্পণ্য করছেননা। যদিও অনেক নাগা সন্ন্যাস আবার এক ছিলিম গাঁজার যোগান পেলেই পুণ্যার্থীদের সাতপুরুষকে স্বর্গে যাওয়ার আশীর্বাদও করতেও কুণ্ঠা বোধ করছেন না।


এই মুহূর্তে সমগ্র ভারতের এক মিলনভূমি হয়ে উঠেছে গঙ্গাসাগরের মেলা প্রাঙ্গণ। রবীন্দ্রনাথের লেখনী ধার করেই আবার বলতে হয় -
"কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে কত মানুষের ধারা
দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে, সমুদ্রে হল হারা।"
পুণ্যার্থীদের সহায়তাল লক্ষ্যে গতকালই 'ভারত সেবাশ্রম সংঘ' স্বেচ্ছাসেবকদের এক বড়ো দল নিয়ে হাজির হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে।

ছবি : মৃত্যুঞ্জয় রায় 

Comments