উচ্চ মেধা ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবে ক্ষয়রোগে ভুগছে পশ্চিমবঙ্গ : অশোক দাস


হীরক মুখোপাধ্যায় 

কলকাতা (৩০ মার্চ '২৬):- "উচ্চ মেধা এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বর অভাবে এই মুহূর্তে ক্ষয়রোগে ভুগছে পশ্চিমবঙ্গ," আজ ঠিক এই ভাষাতেই পশ্চিমবঙ্গের সবকটা রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের গুণগত মাণের দিকে আঙুল তুললেন 'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত'-এর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ শাখার মহাসচিব অশোক দাস (Ashok Das, General Secretary, West Bengal, HMKP)।

শ্রী দাস তাঁর বক্তব্যের সরলীকরণ করতে গিয়ে বলেছেন, "জনগণের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে ভারতে ১৯৫৫ সালে চালু হয়েছিল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫ (Essential Commodities Act 1955), যদিও আজ থেকে প্রায় ছ'বছর আগে সারা দেশে এই আইনের কিছু বদল [Commodities (Ammendment) Ordinance 2020] দেখা গেলেও পশ্চিমবঙ্গের নেতানেত্রীরা এই বিষয়ে এখনো কিছু ভাবছেন না, ফলতঃ পড়ে পড়ে মার খাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টা চাষের সাথে জড়িত অগণিত কৃষক।"

আজ কলকাতার 'ভারত সভা'-র সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি অধিবেশন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে অশোক দাস অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বলেছেন, "এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে এক বিঘা জমিতে ভালো আলু চাষ করতে খরচ হচ্ছে কমবেশি ২৫ হাজার টাকা, আলু বিক্রির পর বিঘা প্রতি হাতে আসছে কমবেশি ১৫ হাজার টাকা, তার মানে প্রত্যেক বছর আলুচাষীদের বিঘা প্রতি ক্ষতি হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এই ভাবে চললে কী আলুচাষীরা বাঁচবেন না ভবিষ্যতে কেউ চাষাবাদ করতে চাইবেন !"

'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত'-এর প্রদেশ মহাসচিব আরো জানিয়েছেন, "বিঘা প্রতি আলুর উৎপাদন খরচ এখন আগের থেকে কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও, শুধুমাত্র ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখার কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার খোলা বাজারে আলুর দাম বাড়াতে দেয় না। 

হিমঘরগুলোয় খাদ্যসম্ভার রাখতে গেলেও এই রাজ্যে অশিক্ষিত বা নিম্নশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতা বা গোষ্ঠীর স্মরণাপন্ন হতে হয়।

এর বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত কিছু বিশেষ খাদ্যসামগ্রী(আলু ও অনন্য কিছু দ্রব্য)ও দেশের অন্য প্রদেশ সহ বহির্বিশ্বে রপ্তানি করতেও গত ২ বছর ধরে কৃষকদের বাঁধা দিয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ভবিষ্যতে হয়তো কেউই আর চাষাবাদ করতে চাইবেন না।"

বলে রাখা ভালো, ১৯৮৩ সালের ২৫ মে সমাজবাদী আদর্শকে ভিত্তি করে শ্রমিক সংগঠন রূপে পথচলা শুরু করেছিল 'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত'। এই মুহূর্তে এই সংগঠনের প্রদেশ অধ্যক্ষ রূপে দায়িত্বশীল আছেন এল কালাপ্পা।

কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি বঞ্চনার কারণে কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর যুগপত দোষারোপ করে আজ সাধারণ জনগণের মঙ্গলের জন্য মোট ১২ দফার এক দাবিপত্র পেশ করে 'হিন্দ মজদুর কিষান পঞ্চায়েত'। 

Comments